
ঢাকা : আজ ২৯ জুলাই, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রয়াণ দিবস।১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর কলকাতার মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে এক দরিদ্র ব্রাহ্মণপরিবারে তার জন্ম। তবে দরিদ্রতা তার শিক্ষালাভের আগ্রহকে কেড়ে নিতে পারেনি। শিক্ষার প্রতি প্রবল আগ্রহ থাকায় রাতে ঘরে আলো জ্বালানোর মতো সামর্থ্য না থাকলেও রাস্তায় লাইটের নিচে বসেই পড়ালেখা চালিয়েছেন তিনি।
এভাবেই গ্রামের পাঠশালা থেকে সংস্কৃত শেখার পর বাবার সঙ্গে চলে যান কলকাতায়। সেখানেও বিভিন্ন ভাষায় শিক্ষালাভে গভীর মনোযোগ দেন তিনি। যার ধারাবাহিকতায় ১৮৩৯ সালে বাংলা, সংস্কৃতি ও ইংরেজি ভাষায় অগাধ পাণ্ডিত্যের জন্য সংস্কৃতি কলেজ থেকে তাকে দেয়া হয় সম্মানজনক 'বিদ্যাসাগর' উপাধিটি।
শিক্ষালাভের পাশাপাশি সমাজসংস্কারেও বিশেষ অবদান রেখেছেন তিনি। তার অক্লান্ত পরিশ্রমেই নারীরা পেয়েছে তাদের পূর্ণ অধিকার, হিন্দু নারীরা পেয়েছে মানুষ হয়ে বাঁচার প্রেরণা। কলুষিত সমাজকে নতুন করে ঢেলে সাজাতে সতীদাহ প্রথা উচ্ছেদ, বিধবা বিবাহ আইন পাসসহ অসংখ্য অবদান রয়েছে তার। হোমিওপ্যাথি শাস্ত্রেও পাণ্ডিত্য ছিল এই নিরহংকার ব্যক্তিটির। অবদান রেখেছেন বাংলা লিপি সংস্কারেরও।
তিনিই প্রথম বাংলায় যতি চিহ্নের প্রচলন ঘটিয়েছিলেন। বিবিসি বাংলার 'সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি কে?' জরিপে শ্রোতাদের মনোনীত শীর্ষ বিশজন বাঙালির তালিকায় অষ্টম স্থানে রয়েছেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
১৮৯১ সালের এই দিনে তিনি মারা যান। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ছিলেন বিংশ শতাব্দীর একজন বিশিষ্ট বাঙালি শিক্ষাবিদ, সমাজ সংস্কারক ও লেখক।
আজকে আমরা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি সেই মহান ব্যক্তিত্বকে, যিনি নারীশিক্ষা ও বিধবাবিবাহের প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।
বিদ্যাসাগরের পুরো নাম ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় হলেও, তিনি বিদ্যাসাগর নামেই বেশি পরিচিত।
তিনি বাংলা গদ্যের একজন শ্রেষ্ঠ রূপকার ছিলেন এবং তাঁর রচিত "বর্ণপরিচয়" আজও শিশুদের কাছে বাংলা শিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। বাঙালি সমাজে প্রগতিশীল সংস্কারের অগ্রদূত এই মহান সংস্কারকের জীবনাবসান ঘটেছিল আজকের এই দিনটিতে। তবে স্মরণীয় হয়ে আছেন তার কাজের মাধ্যমেই। কালের স্রোতে তাই আজও সমাজদরদি এই মহাত্মা বেঁচে আছেন বাঙালি সমাজের মানুষের প্রতিটি অন্তরে।
বিদ্যাসাগরের প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন সংস্থা ও সংগঠন নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে।
সম্পাদক : মোঃ তুহিন আহামেদ
নির্বাহী সম্পাদক : আহমদ মাজহারুর হক (আশরাফ)
প্রকাশক : শাহিনুর রহমান
Copyright © 2026 বর্তমান সংবাদ. All rights reserved.