আশুলিয়া (ঢাকা) : প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ইকরা প্রি-ক্যাডেট এন্ড হাইস্কুলে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ঐতিহ্যবাহী শীতকালীন পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। উৎসবে শিশুরা বিলুপ্তপ্রায় বিভিন্ন জেলার ঐতিহ্যবাহী পিঠার পসরা সাজিয়ে প্রদর্শন করে। যেখানে ক্রেতাদের অধিকাংশই শিশু-কিশোর। পাশাপাশি স্থানীয় লোকজনও এসেছে পিঠা কিনতে।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ৩টা থেকে আশুলিয়ার শিমুলিয়া ইউনিয়নের কোনাপাড়া এলাকার স্কুলটির উদ্যোগে এবং প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মো: হুমায়ুন কবিরের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এ পিঠা উৎসবের আয়োজন করা হয়।
পিঠা উৎসবে নকশী পিঠা ঘর, রসের হাড়ি, নবান্ন পিঠা ঘর, গ্রাম বাংলার পিঠা, পিঠা কুঞ্জ, নিমন্তন্ন পিঠা ঘর, ইষ্টিকুটুম পিঠা ঘর এবং কুয়াশায় পিঠাঘর সহ ৮টি পিঠার স্টল বসে।
দুধ কুলি, ভাপা পিঠা, তিলের পিঠা, পাটি সাপটা, নকশী পিঠা, পুলি পিঠা, চিতই, ঝিনুক পিঠা, তেলের পিঠা, নারু পিঠা, সন্দেশ পিঠা সহ দেশের বিভিন্ন জেলার ঐতিহ্যবাহী হরেক রকমের পিঠা শোভা পেয়েছে স্টকগুলোতে।
দর্শনার্থীরাও এগুলা কেউ কিনে খাচ্ছে আবার কেউ কিনে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছে। এবছর প্রায় এক’শরো বেশি প্রকারের পিঠা প্রদর্শন করা হয়। ইকরা প্রি-ক্যাডেট এন্ড হাইস্কুলের শিক্ষার্থীদের সাথে তাদের অভিবাবকরাও পিঠা উৎসবে অংশগ্রহণ করেন।
সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়াতে পিঠা উৎসবে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি স্থানীয়দেরও ব্যাপক ভিড় ছিল। তারাও আনন্দ সহকারে পিঠার স্টলগুলো ঘুরে দেখেছেন, পিঠা স্বাদ নিয়েছেন।
পিঠা উৎসবে আসা দর্শনার্থীরা জানান, শিমুলিয়ায় এবার তৃতীয় বারের মত ইকরা-প্রি ক্যাডেট এন্ড হাইস্কুলে পিঠা উৎসব হচ্ছে। এর আগেও গত দুই বছর ধরে এই প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে পিঠা উৎসব করা হয়। শীতের তীব্রতা আবার একই সাথে এরকম একটা আয়োজন সত্যিই অসাধারণ। পিঠা পুলির সাথে পরিচয়ও হওয়া যায়।
পিঠা উৎসবের আয়োজক ইকরা প্রি-ক্যাডেট এন্ড হাইস্কুলের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মো: হুমায়ুন কবির জানান, এখন শীতকাল চলছে। শীতের ঐতিহ্য নানান ধরণের পিঠা। কালের বিবর্তনে শীতের পিঠা পুলির ঐতিহ্য বিলুপ্তির পথে। নানা ধরণের পিঠা পুলির সাথে এ প্রজন্মের শিশু-কিশোর সহ সকলের কাছে পরিচয় করিয়ে দেয়াই এ পিঠা উৎসবের মূল উদ্দেশ্য। প্রতি বছরের মত এবারও প্রায় ৮টি স্টল বসেছে পিঠার৷ এবারের আকর্ষণ হচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলার ঐতিহ্যবাহী পিঠার পসরা সাজিয়ে বসে শিক্ষার্থীরা বলেও যোগ করেন তিনি।