সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১১:৩৭ পূর্বাহ্ন

আমার দেশ!

আহমদ মাজহারুল হক / ৪৮৫ বার পঠিত
প্রকাশের সময় : শনিবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২৩, ১০:৪৩ অপরাহ্ণ

এই দেশের ভাগ্য পরিবর্তনের শেষ লড়াইটা হয়। বিজয়ের মাস ডিসেম্বরে। ৩০ লাখ শহীদ আর ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানির বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা। সুদীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ ঘটনা হলো ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রামের এক ঐতিহাসিক ঘটনার মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতির হাজার বছরের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বপ্ন সাধ পূরণ হয় এ মাসে। একেই বিজয়ের মাস বলি আমরা।

পশ্চিম পাকিস্তানের পরিকল্পায়, ভাষার ভিত্তিতে যে জাতীয়তাবাদ গড়ে উঠেছিল, এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর বিজয়ের মাধ্যমে ঘোষিত স্বাধীনতা পূর্ণতা পায় ডিসেম্বরের ১৬ তারিখে। বাঙালির হাজার বছরের স্বপ্নপূরণ হওয়ার পাশাপাশি বহু তরতাজা প্রাণ বিসর্জন আর মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে এই অর্জন হওয়ায় বেদনাবিধূর এক শোকগাঁথার মাসও এই ডিসেম্বর।
স্বাধীন জাতি হিসেবে বিশ্বে আত্মপরিচয় লাভ করে বাঙালিরা। অর্জন করে নিজস্ব ভূখণ্ড আর সবুজের বুকে লাল সূর্য খচিত নিজস্ব জাতীয় পতাকা।
কত না বলা কথা কত প্রেম ভালোবাসা। সব কিছুর ত্যাগেই জন্ম নিয়ে ছিলো সোনার বাংলা “বাংলাদেশ”।

বঙ্গবন্ধু একাত্তরের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার আগে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। তার ডাকে বাঙালি জাতি ঐক্যবদ্ধভাবে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তখনও জানা ছিলো না আদৌ পারবে কিনা বিজয় আনতে। কিন্তু সে মহা নায়কের ডাক যেনো রক্তে জেগে ছিলো স্বাধীনতার স্বাদ। ফলে ৯ মাসের সশস্ত্র জনযুদ্ধে ১৬ ডিসেম্বর জাতির চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়।

১৯৭১ সালের ডিসেম্বরের শুরু থেকেই মুক্তিযোদ্ধাদের গেরিলা আক্রমণ আর ভারতীয় মিত্রবাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত যৌথবাহিনীর জল-স্থল আর আকাশপথে সাঁড়াশি আক্রমণের মুখে বর্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর পরাজয়ের সংবাদ চারদিক থেকে আসতে থাকে। একটার পর একটা জেলা মুক্ত হবার খবরে আরো এগিয়ে চলে মুক্তিবাহিনী। এই তো বিজয়। এতো সেই স্বাধীন দেশ।

দেখতে দেখতে সেই দিন এসেই পরে, ১৬ ডিসেম্বর। ঢাকার ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। যেখান থেকে ৭ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম,’ বলে স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন, সেখানেই পরাজয়ের দলিলে সই করেন পাকিস্তানি জেনারেল নিয়াজী। সেই ডাক সেখানেই সত্যে রুপ নেয়। সেখানেই দেশের দলিল রচিত হয়।

৫০ বছর পার হয়েছে এই ছোট দেশটি । এই ৫০ বছরে নানা ষড়যন্ত্র এসেছে বার বার। বঙ্গবন্ধু মত মহান নেতা কে হত্যা। সামরিক, শাসন এরপর লুটেদের তান্ডব। জেনো হরিলোট। কিন্তু এতো কিঁছুর পর বাংলাদেশ আবার ঘুরে দাড়িয়েছে। পদ্মা সেতুর মত বড় বড় উন্নয়ন হয়েছে। যা আজ আমাদের চোখের সামনে। সেই পাকিস্তানীরা আজ আমাদের উদাহারণ টেনে কথা বলে। বলে দেখো বাংলাদেশ কে। কোথা থেকে কোথায় এগিয়ে চলেছে।

এখন দায়িত্ব হলো এই প্রজন্মের হাতে। যারা মুক্তিযোদ্ধ দেখেনি তাদের কাজ এখন এই দেশ কে আরো এগিযে নিয়ে যাওয়া। মনে রাখা দরকার দেশটা কিন্তু আমাদের। আমাদের একটাই ভূখণ্ড।

দেশ মায়ের মত, তাই মাকে ভালোবাসার মতই দেশপ্রেমিক হতে হবে। বিজয়ের মাসে এই হোক নতুন শপথ। ” কারো কাছে মাথা নুয়ে নয় মাথা উঁচু করে হিমালয়ের মত দাড়িয়ে থাকবো আমরা”।

লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট।

Facebook Comments Box


এই ক্যাটাগরির আরো খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর